শেষের কবিতা লিরিক্স - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শেষের কবিতা উপন্যাস থেকে) shesher kobita pdf

সবাই কেমন আছেন আশাঁ করা যায় সকলে ভালো আছেন সুস্থ আছেন । আজকে আমরা আপনাদের মাঝে নিয়ে আসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা বাংলা লিরিক্স । আপনারা সেকলে হয়তো কম বেশি এই উপন্যাসটি পড়েছেন তাও নানা কাজে শেষের কবিতার কিছু বিখ্যাত লাইন আমাদের জীবনে নানা কাজে লাগে তাই আমরা অনলাইনে খোঁজ করি তাই না । আপনি চাইলে আমাদের ওয়েব সাইট থেকে পড়তে পারবেন অথবা কপি করে লিখে রাখতে পারেন আপনার প্রয়োজন অনুসারে । যেহেতু বর্তমান সময়ে আমাদের কাছে কম বেশি র্স্মাট আছে তাই না । আপনি চাইলে আমাদের কাছ থেকে শেষের কবিতা উপন্যাস pdf file download করে নিয়ে আপনার ফোনে আপনার সময় অনুসারে পড়তে পারেন কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই । ফাইলটি ডাউনলোড করতে হলে আমাদের পোষ্টের নিচে কমন্টে করার ব্যবস্থা করা আছে আপনি সেখানে কমেন্ট করতে পারেন আমরা আপনাকে সঠিক ডাউনলোড লিংকটি প্রদান করবো । এখানে সরাসরি লিংকটি না দিবার কারন হলো এতে আমাদের নানা প্রকার সমস্যা হতে পারে তাই shesher kobita pdf download লিংকটি পেতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন । 

shesher kobita pdf



কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?

তারি রথ নিত্যই উধাও

জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন-

চক্রে পিষ্ট আঁধারের বক্ষ ফাটা তারার ক্রন্দন।

ওগো বন্ধু,

সেই ধাবমান কাল

জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল-

তুলে নিল দ্রুত রথে

দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে

তোমা হতে বহু দূরে।

মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে

পার হয়ে আসিলাম

আজি নব প্রভাতের শিখরচুড়ায়;

রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়

আমার পুরানো নাম।

ফিরিবার পথ নাহি;

দুর হতে যদি দেখ চাহি

পারিবে না চিনিতে আমায়।

হে বন্ধু বিদায়।

কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে

বসন-বাতাসে

অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,

ঝরা বকুলের কান্না ব্যতিবে আকাশ,

সেই ক্ষনে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে

তোমার প্রাণের প্রানে-; বিস্মৃতি প্রদোষে

হয়তো দিবে সে জ্যোতি,

হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি।

তবু সে তো স্বপ্ন নয়,

সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়-

সে আমার প্রেম,

তারে আমি রাখিয়া এলেম

অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশ্যে।

পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে

কালের যাত্রায়।

হে বন্ধু, বিদায়।

তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি।

মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি

যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি

হোক তব সন্ধ্যাবেলা-

পুজার সে খেলা

ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লানস্পর্শ লেগে;

তৃষার্ত আবেগবেগে

ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।

তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে

যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়

তার সাথে দিব না মিশায়ে

যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।

আজও তুমি নিজে

হয়তো বা করিবে রচন

মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নবিষ্ট তোমার বচন।

ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।

হে বন্ধু, বিদায়।

মোর লাগি করিয়ো না শোক-

আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।

মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,

শূন্যের করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।

উৎকন্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে

সেই ধন্য করিবে আমাকে।

শুক্লপক্ষ হতে আনি

রজনীগন্ধার বৃন-খানি

যে পারে সাজাতে

অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,

যে আমারে দেখিবারে পায়

অসীম ক্ষমায়

ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,

এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।

তোমারে যা দিয়েছিনু তার

পেয়েছে নিঃশেষ অধিকার।

হেথা মোর তিলে তিলে দান,

করুণ মুহুর্তগুলি গন্ডুষ ভরিয়া করে পান

হৃদয় অঞ্জলি হতে মম।

ওমো তুমি নিরুপম,

হে ঐশ্বর্য্যবান,

তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;

গ্রহন করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।

হে বন্ধু বিদায়।

Post a Comment

0 Comments